অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশের ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও ছাত্রী শাখাকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। মাঠের রাজনীতি, সাংগঠনিক বিস্তার এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব দল নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে কাজ করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তাদের নারী সংগঠনকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও মহিলা বিভাগের পুনর্গঠন চলছে, আবার কোথাও আলাদা ছাত্রী উইং গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নতুন করে নারী শাখা সংগঠিত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আগে ‘মহিলা মজলিস’ নামে যে সাংগঠনিক কাঠামো ছিল, তা প্রায় দুই দশক ধরে কার্যত অকার্যকর অবস্থায় ছিল। এখন সেটিকে কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধানে পুনরায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজন দায়িত্বশীলকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।
দলটির নেতাদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীদের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম চললেও তা এতদিন কেন্দ্রীয় সংগঠনের আওতায় ছিল না। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশে মতবিনিময় ও সফরের মাধ্যমে নারী সংগঠনের বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তাদের সাংগঠনিক শক্তির বড় একটি অংশ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত। দলটির তথ্য অনুযায়ী, নারী শাখায় সহযোগী সদস্য, কর্মী ও রুকন—এই তিন স্তরে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক নারী কর্মী ও সদস্য মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এছাড়া ছাত্রী সংগঠনও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে।
দলটির নেতারা দাবি করেছেন, অতীত রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নারী ও ছাত্রী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলা ও চাপের মুখে পড়লেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তারা আরও প্রকাশ্যে ও সাংগঠনিকভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে নতুন ছাত্রী উইং গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির নেতাদের মতে, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, নারী নেতৃত্ব তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। কোরবানির ঈদের পর সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারাও স্বীকার করেছেন যে তাদের নারী বিভাগ এখনো খুব শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে এবং কিছু এলাকায় মহিলা কমিটিও কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি দলগুলোর জোটভিত্তিক রাজনীতি, নির্বাচনি প্রস্তুতি এবং তৃণমূল বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা থেকেই নারী শাখাগুলোকে নতুনভাবে সক্রিয় করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের রাজনীতিতে নারী ভোটারদের গুরুত্ব বাড়ায় ইসলামি দলগুলো এখন নারী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী ও তরুণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পারলে ইসলামভিত্তিক দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে দলগুলো।
আর/

