আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরাইলি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উগ্র জাতীয়তাবাদী বসতি স্থাপনকারীরা ব্যাপকভাবে মসজিদ এলাকায় প্রবেশ অভিযান চালায়। এ সময় এক ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে আল-আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে ইহুদি মন্দির নির্মাণের আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের আগে থেকেই আল-আকসা ও পুরোনো শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং বহু মানুষকে জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ফজরের নামাজের পর আল-আকসা মসজিদের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হয়। মুসল্লিদের পরিচয়পত্র জব্দ করা হয় এবং ৬০ বছরের কম বয়সী পুরুষ ও ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি ফটকে মুসল্লিদের মারধর ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে।
আল-আকসা পরিচালনাকারী ইসলামিক ওয়াকফের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে। ফজরের নামাজের কিছু সময় পরই ওয়াকফের অল্প কয়েকজন কর্মী ছাড়া প্রায় সব ফিলিস্তিনিকে মসজিদ এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর কড়া পুলিশি পাহারায় দলে দলে ইসরায়েলি উগ্র জাতীয়তাবাদীরা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। সকালের মধ্যেই অন্তত ৮০০ ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় তারা ধর্মীয় আচার পালন করে এবং মসজিদ চত্বরে ইসরাইলি পতাকা ওড়ায়।

অভিযানে অংশ নেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরসহ কয়েকজন ইসরাইলি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। বেন গভির বলেন, “দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে আমরা আবার টেম্পল মাউন্টে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছি। টেম্পল মাউন্ট এখন আমাদের হাতে।”
একই সময় তার দলের সংসদ সদস্য ইৎজাক ক্রইজার ডোম অব দ্য রকের পাশে নাচ ও গান করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “সব মসজিদ সরিয়ে ফেলে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করার সময় এসেছে।”
আরেক মন্ত্রী ইৎজাক ওয়াসারলাউফ দাবি করেন, “ইহুদিদের আর টেম্পল মাউন্টে চোরের মতো চলাফেরা করতে হয় না এবং লুকিয়ে থাকতে হয় না।” অভিযানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য আরিয়েল কালনারও অংশ নেন।
আল-আকসা মসজিদ ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, এটি মুসলিমদের একচ্ছত্র উপাসনাস্থল এবং ইসলামিক ওয়াকফ এর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়মিত প্রবেশ ও প্রকাশ্যে ইহুদি প্রার্থনার অনুমতির মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযান এমন সময়ে চালানো হলো, যখন ইসরায়েল “জেরুজালেম দিবস” পালন করছে। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের স্মরণে পালন করা এ দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর “ফ্ল্যাগ মার্চ” অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাগুলো দিয়ে যাওয়া এ মিছিলে প্রায়ই বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ বছরের জেরুজালেম দিবস নাকবা দিবসের সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ শুক্রবার সাধারণত জুমার নামাজের জন্য আল-আকসায় ইসরায়েলি প্রবেশ অভিযান বন্ধ থাকে। তবে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি শুক্রবারও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন।
জেরুজালেমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন “ইর আমিম” সতর্ক করে বলেছে, টেম্পল আন্দোলনের প্রতি সরকারি সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, উগ্র গোষ্ঠীগুলো ভবিষ্যতে আল-আকসা প্রাঙ্গণে আরও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

