আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে আমিরাত সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলায় আমিরাত শুধু নীরব সমর্থনই দেয়নি, বরং তাদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার ছিল এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
ইরানি এই কূটনীতিক আরও অভিযোগ করেন, হামলা শুরুর পরও আবু ধাবি প্রকাশ্যে কোনো নিন্দা জানায়নি। বরং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ আগেই অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে একটি গোপন বৈঠকের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে সেই বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে আবু ধাবি। এই প্রসঙ্গ টেনে আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে কিছু আঞ্চলিক শক্তি প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার কথা বললেও বাস্তবে তারা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর থেকেই তেহরান ও আবু ধাবির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
আরাঘচি বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে মিত্রতা আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।” তিনি দাবি করেন, ইরান কখনও আমিরাতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেনি; বরং দেশটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামকেই টার্গেট করা হয়েছিল।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিল আবু ধাবি। তবে তেহরান সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতেই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বর্তমান উত্তেজনা সেই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ, লোহিত সাগর সংকট এবং ইরান-ইসরায়েল বিরোধকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চল এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: এএফপি
আর/

