আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ডলারের বিপরীতে রেকর্ড দরপতনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে ভারতীয় রুপি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল এবং চলতি বছরের সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা মুদ্রায় পরিণত হয়েছে ভারতীয় রুপি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার বড় প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে দেশটির ওপর।
বুধবার (১৩ মে) এক ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৭৯৫০, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর আগের দিন রুপির সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিল ৯৫ দশমিক ৭৩৭৫। দিনের লেনদেন শেষে রুপির মান আরও ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ৭০৫০-এ দাঁড়ায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ এবং আমদানিকারকদের বাড়তি হেজিং চাহিদাও রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। নিজেদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে দেশটি। ফলে জ্বালানি বাজারে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও রুপা আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি সরকার, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমানো যায়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের দাম কমা অথবা বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়া ছাড়া রুপির দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা কাটানো কঠিন হবে। ডিবিএস ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ রাদিকা রাও এক বিশ্লেষণে বলেন, রুপির স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।
এদিকে বার্কলেজের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু নীতিগত পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে সুদের হার বৃদ্ধি এখনও ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবেই বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তারা বছরের শেষে ডলার-রুপি বিনিময় হার ৯৬ দশমিক ৮০ হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন।
আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছেন, আপাতত ভারত সরকার জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
বিশ্ববাজারেও সতর্ক লেনদেন দেখা গেছে। যদিও প্রযুক্তিখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, তবুও ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান অচলাবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
সূত্র: রয়টার্স
আর/

