ঢাকার আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে মহানগর হাকিম আদালতের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় ভিড়ের মধ্যে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তিনি পড়েননি—শেষ সিঁড়িতে পা বেঁকে গেলে দায়িত্বরত সদস্যরা তাকে ধরে রাখেন।
একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় আশরাফুল ওরফে ফাহিম হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং জামিনও নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলার ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই এবং ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দিলে তিনি হাত তুলে জবাব দেন। শুনানি শেষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
হট্টগোলের একপর্যায়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে বিচারক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাদের এজলাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণে আশরাফুল ওরফে ফাহিম গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় গত ২৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে আসা শিরীন শারমিন চৌধুরী পরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৩ সালে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি টানা তিন মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
আর/

