দিয়াবাড়ি পশুর হাটে গভীর রাতে ‘শেড খরচ’ নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

গরুপ্রতি এক হাজার টাকা দাবি, ক্ষোভে ফুঁসছেন খামারি ও বেপারীরা; অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগও

by ABDUR RAHMAN
দিয়াবাড়ি পশুর হাটে গভীর রাতে ‘শেড খরচ’ নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রাজধানীর সবচেয়ে বড় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিত উত্তরা দিয়াবাড়ি হাটে গরুপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। খামারি ও বেপারীদের দাবি, গভীর রাতে মাইকিং করে প্রত্যেক গরুর জন্য এক হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

হাটে আসা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়—গরুপ্রতি এক হাজার টাকা করে ‘শেড খরচ’ বা ‘বকশিস’ দিতে হবে। পরে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন স্টলে গিয়ে সেই টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।

বেপারীদের ধারণা, হাটে অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ গরু এসেছে। সেই হিসাবে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অভিযোগ করেন তারা।

পাবনা থেকে আসা পশু চিকিৎসক আজিজুল হক জানান, পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থা, কাদা-পানি ও টয়লেট সংকটের কারণে হাটের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এতে গরুর দাম কমে গেছে এবং তার ১৩টি গরু বিক্রিতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যক্তি এসে গরুপ্রতি এক হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার গরুগুলো শেডের বাইরে রাখা হলেও পুরো টাকাই দিতে হয়েছে। আজিজুলের ভাষায়, “হাটের সব খরচ বেপারীদের কাছ থেকেই তোলা হচ্ছে। রাতের বেলা হঠাৎ মাইকিং করে টাকা দাবি করা হয়েছে।”

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা মো. মাসুদ রানা জানান, রাতের মাইকিংয়ে বলা হয়েছিল বিক্রি হওয়া গরুর জন্য টাকা দিতে হবে। পরদিন সকালে এসে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে বিক্রি হওয়া গরুর হিসাব জানতে চান এবং দুইটি গরু বিক্রি হয়েছে শুনে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. হাবিব বলেন, চারটি গরু বিক্রি করেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে তার। তিনি অভিযোগ করেন, হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল এবং পাশের এক খামারির দুটি গরু চুরি হয়েছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টিকে তিনি “মরার উপর খাঁড়ার ঘা” হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাটোরের সিংড়া থেকে দুইটি মহিষ নিয়ে আসা আব্দুস সবুর জানান, হাটের অব্যবস্থাপনার কারণে তারা ভবিষ্যতে আর এখানে আসতে চান না। তার অভিযোগ, ছয় মাস লালন-পালনের পরও মহিষ বিক্রি করতে হচ্ছে কেনা দামে। এরপর আবার অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

নাছির এগ্রো ফার্মের পরিচালক অপি বলেন, বড় গরু বিক্রিতে আগেই বিপুল পরিমাণ হাসিল নেওয়া হচ্ছে। এরপর আবার আলাদাভাবে টাকা দাবি করা হয়েছে। তিনি জানান, কাদা-পানিতে গরুগুলো ভিজে থাকায় নিজেদের লোক দিয়েই বারবার পানি সরাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী ও ঢাকা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হাটে উপস্থিত থাকলেও ব্যস্ততার কথা বলে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান।

হাটে উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এক পর্যায়ে এক ভলেন্টিয়ার একজন বেপারীকে ধরে এনে গরুপ্রতি টাকা দেওয়ার কথা বলেন এবং পরে তাকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

এদিকে, দুই সিটি করপোরেশনের নীতিমালায় নির্ধারিত হাসিল ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই বলে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ