অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা এবং ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারও স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩২ টাকা।
শনিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৩তম সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে এ এলএনজি কেনা হবে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের ১৫-১৬ জুন, ২১-২২ জুন এবং ২৫-২৬ জুন সময়সীমায় যথাক্রমে ২৩তম, ২৪তম ও ২৫তম কার্গো দেশে পৌঁছাবে। দেশে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে বাড়তি গ্যাস চাহিদা মোকাবিলায় দ্রুত এসব এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের ৭ মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০তম সভায়ও তিন কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই চালানগুলো কেনা হয় ভাইটল এশিয়া, বিপি সিঙ্গাপুর ও গানভর সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে। তখন মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ২২২ টাকা।
সেই হিসাবে একই পরিমাণ এলএনজি আমদানিতে এবার সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম আরও বেড়েছে।
জ্বালানি খাতের চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৩৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। এলএনজি আমদানির অর্থায়নে সহায়তার উদ্দেশ্যে গত ১৫ মে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে একই বৈঠকে কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
আর/

