অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার এক বছর পার হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। দ্রুত বিচার শেষে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে রায় ঘোষণা করা হলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাস্তি কার্যকরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে নিহত শিশুটির পরিবার।
২০২৫ সালের মার্চে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নিজ বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন-মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরু হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন রয়েছে।
নিহত শিশুটির মা বলেন, মেয়ের হত্যার বিচার দ্রুত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার অভিযোগ, ঘটনার পর অনেকেই পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও বর্তমানে কেউ খোঁজ নেয় না। পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় সংসারের পুরো দায়িত্ব তার ওপর এসে পড়েছে। একটি গাভি পালন ও সামান্য আয় দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাতে হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতায় শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে হিটু শেখের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ। ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং নতুন করে একটি ছোট ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি হওয়া বাধ্যতামূলক। তারা আশা করছেন, দ্রুত শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলার বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাদের মতে, দ্রুত বিচার ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই আলোচিত এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর/

