‘জাস্টিস ফর রামিসা’ স্লোগানে উত্তাল রাজপথ, রাজধানীসহ দেশজুড়ে শিক্ষার্থী-জনতার বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ইডেন কলেজ, মিরপুর ও দাগনভূঞায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রতিবাদ; দ্রুত বিচার ও ধর্ষণের সর্বনিম্ন শাস্তি ফাঁসির দাবি

by ABDUR RAHMAN
‘জাস্টিস ফর রামিসা’ স্লোগানে উত্তাল রাজপথ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর ইডেন কলেজের ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

‘শিশু রামিসাসহ সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যাহত ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’— এই দাবিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধর্ষণবিরোধী স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার মতো নৃশংস ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার সব ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পরও কিছু মানুষ নারীদের দোষারোপ করে এবং ধর্ষকদের পক্ষ নেয়। এ ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় মানুষ।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সকালে রামিসার বাসভবনের সামনে থেকে ‘মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুল’-এর ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়ে মিরপুর-১১ এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিলে অংশ নেওয়া শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘জাস্টিস ফর রামিসা’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তারা দ্রুত বিচার ও নিরাপদ সমাজ গঠনের দাবি জানায়।

শিক্ষকরা বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশু এমন ঘটনার শিকার না হয়, সেজন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, এলাকায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা সচল না থাকা এবং দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান।

রামিসার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে, ফেনীর দাগনভূঞায় ধর্ষণের সর্বনিম্ন শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ‘এক দফা, এক দাবি—ধর্ষণের সর্বনিম্ন শাস্তি ফাঁসি চাই’ স্লোগান দেওয়া হয়।

জুলাই যোদ্ধা প্রিন্স মাহমুদ আজিমের নেতৃত্বে আতাতুর্ক সরকারি হাই স্কুল গেট থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

প্রিন্স মাহমুদ আজিম বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি সর্বনিম্ন শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড করতে হবে। তিনি রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্নের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

কর্মসূচিতে দাগনভূঞার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সংহতি প্রকাশ করেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ