যুদ্ধ, উচ্চ সুদ আর অনিশ্চয়তা—চাকরি হারাচ্ছেন হাজারো আমেরিকান

by ABDUR RAHMAN

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কর্মসংস্থান কমেছে। আজ শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মাসে অর্থনীতি থেকে মোট ৯২ হাজার কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি নেতিবাচক। এর ফলে দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪ শতাংশে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি নির্মাণ খাতে প্রায় ১১ হাজার এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ২৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

স্বাস্থ্যসেবা খাতে এই ছাঁটাইয়ের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ধর্মঘট। ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে কাইজার পারমানেন্টে-সহ কয়েকটি বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়াও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

২০২৫ সালে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে—এমন আশা করা হয়েছিলো। তবে ফেব্রুয়ারির এই তথ্য সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। সরকারের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুল্কনীতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রভাবেও নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগে অনীহা দেখাচ্ছেন।

এদিকে শ্রমবাজারের দুর্বলতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম এক রাতেই গ্যালনপ্রতি ৭ সেন্ট বেড়ে ৩.৩২ ডলারে পৌঁছেছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের গড় মজুরি গত বছরের তুলনায় ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, শ্রমবাজারের এই আকস্মিক দুর্বলতা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে তাদের সুদের হার সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। বেকারত্ব বাড়তে থাকলে অর্থনীতি চাঙা করতে সুদের হার কমানোর চাপও বাড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ফেব্রুয়ারির এই জবস রিপোর্টকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ও চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এটি আগামী দিনে নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ