মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ দাবি করেন, যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে এবং যেখানে অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ কেন্দ্রের ফলাফলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন, সেসব আসনে ফলাফল ঘোষণা হঠাৎ বন্ধ রাখা হয়। পরে সেই ফলাফল একতরফাভাবে বিএনপি জোটের প্রার্থীর পক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর কাছে তিনি জানতে চান, ফলাফল স্থগিত রাখার আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল এবং কোন কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-১৩ আসনকে কেন্দ্র করে তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী—
কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে,
ব্যালটের বান্ডিল সরানো ও কাটছাঁটের অভিযোগ রয়েছে,
১১ দলীয় জোটের ভোট বাতিল করে প্রতিপক্ষের ভোট বাড়ানো হয়েছে,
নিজেদের মতো করে পুনর্গণনা করা হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, এসব অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়াও তাদের একটি দুর্বলতা ছিল।
তিনি আরও বলেন, আমিরে জামাত বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এবং আমিরে মজলিসও ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছেন—এ দুটিই বাস্তবতা। কারও জয় নিয়ে দরকষাকষি বা গোপন সমঝোতার গল্প ছড়ানোকে তিনি “উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
মামুনুল হক-এর প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “পরাজিত হয়েও রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী হওয়া সম্ভব, আবার কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী হয়েও জনমনে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন।”
জোটের ভেতরে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এক আসন নিয়ে আরেক আসনের গল্প, গোপন সমঝোতার অভিযোগ ও ‘গোয়েন্দা সূত্রের’ নামে অপপ্রচারকে পরিকল্পিত ধূম্রজাল বলে আখ্যা দেন।
তার আহ্বান, গুজবে কান না দিয়ে কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “ঐক্যই আমাদের শক্তি। এই ঐক্য দীর্ঘমেয়াদে অটুট থাকলে তা দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।”
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সমন্বিত প্রভাব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বিকল্প নেই।
