আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলার পর একটি ক্যানসার হাসপাতাল খালি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হামলার কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং কেমোথেরাপি নেওয়া ২১১ জন রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন হামলা রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
বাকায়ি বলেন, হামলার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগী ও শিশুদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। তার দাবি, নিরাপদ স্থানে নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় ছিলেন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজারের বরাত দিয়ে জানায়, হামলার কারণে হাসপাতালটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মজিদ বু-আজার আলজাজিরাকে জানান, পরিস্থিতির কারণে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, হামলার সময় অনেক রোগী অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর ও আইভি স্যালাইনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কেউ হুইলচেয়ারে, কেউ কোলে শিশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বের হতে বাধ্য হন।
ইরানের কর্মকর্তারা এ হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
এ অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা, ডন, ফার্স নিউজ
আর/

