অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক রাবারের উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও দেশীয় এই খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, টাঙ্গাইল, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার একর রাবার বাগান থাকা সত্ত্বেও দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ এখনো আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতি বছর প্রাকৃতিক রাবার আমদানিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। অথচ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা গেলে এই ব্যয়ের বড় অংশ দেশেই সাশ্রয় করা সম্ভব।
স্থানীয় উৎপাদকদের অভিযোগ, দেশে উৎপাদিত রাবার বিক্রির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হলেও বড় বড় আমদানিকারক সিন্ডিকেট বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত-থাইল্যান্ড-ইন্দোনেশিয়া থেকে সস্তায় নিম্নমানের রাবার এনে বাজারজাত করার সুযোগ পায়। এতে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে তাদের দাবি।
রাবার খাতের আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে পুরোনো জাতের গাছ ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশের অনেক বাগানে এখনো কয়েক দশক আগের জাতের রাবার গাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে উৎপাদন শুরু হতে দীর্ঘ সময় লাগে। অন্যদিকে আধুনিক জাতের গাছ ব্যবহারকারী দেশগুলো তুলনামূলক কম সময়েই উৎপাদনে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবেও উৎপাদিত ল্যাটেক্স (তরল রাবার) অনেক সময় যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা যায় না। ফলে উৎপাদিত কাঁচামালের একটি অংশ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রাবারকে কৃষিপণ্য হিসেবে অধিক নীতিগত সহায়তা, উন্নত জাতের চারা ব্যবহার, আধুনিক ল্যাটেক্স প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হলে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমে রপ্তানির নতুন সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশে পাদুকা, টায়ার, গ্লাভস এবং বিভিন্ন রাবারভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে দেশীয় রাবার শিল্প আমদানি নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ জন্য সরকারি নীতিগত সহায়তা, গবেষণা এবং বেসরকারি বিনিয়োগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আর/

