বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করেছিল জামায়াত। তবে তাঁর বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি।
সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির বলেন, “আপনি শুনে আশ্চর্য হবেন যখন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন হয়, ছাত্ররা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করছে যে আপনারা কোনো তালিকা দেবেন? আমরা বলেছি, তোমাদের ওপরে আমাদের আস্থা আছে। তোমরা যা ভালো মনে করো, তাই করো। আমরা তালিকা দিইনি। কিন্তু একটা ব্যতিক্রম আছে। একটা সময় গিয়ে তারা বলল যে, যেহেতু আপনারা এ দেশের সবচাইতে বড় ধর্মীয় রাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন, আমরা একজন আলেম নিতে চাই। সে ব্যাপারে আপনারা একজন মানুষের নাম দেন।”
এ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাবুনগরী পূর্বে জামায়াতের সমালোচনা করলেও, হেফাজতে ইসলাম একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম এবং তিনি দেশের প্রবীণ আলেমদের অন্যতম। তার বয়স ৯০ বছরের বেশি হওয়ায় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল।
তবে যাচাই-বাছাই শেষে জানানো হয়, তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি এমন দায়িত্বের চাপ সামলাতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এরপর বিকল্প নাম চাওয়া হলে জামায়াত আর নতুন কোনো প্রস্তাব দেয়নি। দলটির আমির জানান, প্রথম প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তারা বিষয়টি ছাত্রদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে আলেম-ওলামাদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতি জামায়াতের নেই।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশালে তাদের একজন প্রার্থীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে। সেখানে পীর সাহেবের ছোট ভাই মুফতি ফয়জুল হক প্রার্থী ছিলেন। অন্তত একটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের মাধ্যমে তারা সৌজন্য দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তীতে অন্য পক্ষ কী বলেছে, সে বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে বিতর্কে যায়নি বলেও জানান।
আর/

