ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধার শেষ হলে তারা গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফা সীমান্ত ক্রসিং সীমিত পরিসরে আবার খুলে দেওয়ার অনুমতি দেবে বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। রাফা সীমান্ত গাজায় ত্রাণ ঢোকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতির যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, রাফা সীমান্ত আবার চালু করা সেই পরিকল্পনারই অংশ। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী রাফা সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং এরপর থেকে এই সীমান্ত বন্ধ রয়েছে।
খবরে জানা গেছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা জেরুজালেম সফরে গিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তারা রাফা সীমান্ত আবার খুলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ দেন।
এদিকে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো গাজায় আরো বেশি ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানাচ্ছে। টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখন চিকিৎসা সামগ্রী, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য প্রায় পুরোপুরি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছে। তবে শুরুতে শুধু পায়ে হেঁটে যাতায়াতের অনুমতি থাকবে এবং সব ধরনের পারাপার ইসরায়েলি নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় থাকবে।
এই ঘোষণার আগেই গাজার নতুন প্রশাসক আলী শাথ চলতি সপ্তাহে জানান, রাফা সীমান্ত দুই দিক থেকেই আবার চালু করা হবে।
আলী শাথ সম্প্রতি গাজার নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “রাফা শুধু গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি সীমান্ত নয়, এটি তাদের বেঁচে থাকার পথ এবং আশার প্রতীক।”
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জেরুজালেমে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে রাফা সীমান্ত আবার খোলার অনুরোধ জানান।
সূত্র: এএফপি

