ইরানে কর্মী ছাঁটাই না করলে মিলবে সরকারি ঋণ-সুবিধা, ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

যুদ্ধপরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে স্বল্পসুদে ঋণ, কর ছাড় ও বীমা সহায়তার পরিকল্পনা করছে সরকার

by ABDUR RAHMAN
ইরানে কর্মী ছাঁটাই না করলে মিলবে সরকারি ঋণ-সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক সহায়তা পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেশটির অর্থমন্ত্রী সাইয়্যেদ আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করবে না, তাদের সরকার বিশেষ সুবিধা ও স্বল্পসুদে ঋণ দেবে।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের সময়েও সরকার কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়াতে বেশ কিছু কর-সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইরানের অর্থনীতিতে ইস্পাত, পেট্রোকেমিক্যাল ও আসালুই গ্যাস কমপ্লেক্সের মতো বড় শিল্পখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক হামলায় এসব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পসুদে ঋণ ও কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকেও পুনরুদ্ধারের আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিক্রি কমে গেছে বা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, তাদের জন্য কার্যকরী মূলধনের ঋণ, কর পরিশোধ স্থগিত এবং সামাজিক বীমা সুবিধা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মাদানিজাদেহ আরও জানান, ৫০ জনের কম কর্মী রয়েছে—এমন ছোট ব্যবসার জন্য প্রতিটি কর্মীর বেতনের বিপরীতে ২২ মিলিয়ন তুমান পর্যন্ত ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সুবিধা পেতে হলে প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৮০ শতাংশ কর্মী বহাল রাখতে হবে। অর্থাৎ, ১০ জন কর্মী থাকলে সর্বোচ্চ দুইজনকে ছাঁটাই করা যাবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা সরবরাহ সচল রাখাই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ব্যাংক, বীমা ও শুল্ক বিভাগকে সক্রিয় রাখা হয়। অনেক ব্যাংককর্মী ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আবাসিক বাড়ির জন্য বিশেষ যুদ্ধবীমা চালু করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাকচালক ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীদের পণ্য বীমার আওতায় আনতে বীমা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন চাপের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি রপ্তানির সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটির শিল্প ও সেবা খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সরকারের এই উদ্যোগ অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে পারে।

সূত্র: ইরনা

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ