“ধান এখন কৃষকের নয়, গুলশানের ব্যবসায়ীদের”— নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

হাওরে ধান তলিয়ে যাওয়া, কৃষকের দুর্দশা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতীকের অপব্যবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কের

by ABDUR RAHMAN
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশের হাওরাঞ্চলে কৃষকের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেলেও ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি এখন আর কৃষকের মাঠে নেই, সেটি গুলশানকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, বাস্তবের ধান আজ বিপর্যস্ত হলেও ‘ধানের রাজনীতি’ এখন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার রাজধানীতে এনসিপির কৃষি সেল আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষি খাতের বর্তমান সংকট, হাওরাঞ্চলের বোরো ধান ক্ষতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাওলানা ভাসানী কৃষকনির্ভর রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন এবং ধানের শীষকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আদর্শ ও প্রতীক ছিনতাই হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, যদি কৃষককেন্দ্রিক সেই রাজনৈতিক দর্শন টিকে থাকত, তাহলে হাওরের কৃষকদের এমন অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ধানকে ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে পুনর্বাসন ও তোষণের রাজনীতি চলছে। একসময় বগুড়াকেন্দ্রিক যে কৃষিভিত্তিক রাজনীতি ছিল, সেটি এখন গুলশানের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জসহ একাধিক জেলায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বহু কৃষক তাদের একমাত্র ফসল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় গিয়ে তিনি প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়েছেন। একজন নাগরিক নিজের দেশের সীমান্ত এলাকায় স্বাধীনভাবে যেতে না পারা সরকারের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও কৃষকদের জমিতে চাষাবাদে বাধার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

ভারতের সীমান্ত আগ্রাসন ও বিএসএফ সদস্যদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তারের যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে তিনি “বিস্ময়” হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, কৃষি শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষি খাত অস্থিতিশীল হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই কৃষকের উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে আনার আহ্বান জানান তিনি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী ও কৃষক শ্রেণির মানুষের বড় ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রত্যাশা থেকেই মানুষ রাজপথে নেমেছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে কৃষকের ন্যায্যমূল্য, উৎপাদন সুরক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ