আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নতুন মূল্যায়নে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ হামলা সত্ত্বেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে আবারও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং দ্রুত আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক এমনভাবে সাজিয়েছে যে বড় ধরনের আকাশ হামলার পরও মূল কাঠামোর খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। ইমাদ ও খেইবার শেকানসহ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গভীর ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত মেরামত করে ইরান পুনরায় কার্যকর করে তুলেছে তাদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। এছাড়া কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থাও আগের তুলনায় আরও সুসংহত হয়েছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টি আবারও সক্রিয় অবস্থায় ফিরেছে। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এখনো বিপুল সংখ্যক মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং অস্ত্র মজুত ধরে রেখেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের এই পুনরুদ্ধার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা তাদের অস্ত্রভান্ডারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানের দ্রুত সামরিক পুনরুদ্ধার ও আঞ্চলিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

