রুপির চাপ সামলাতে সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়াল ভারত, কমতে পারে সোনার চাহিদা

মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ ও রুপির পতনের মধ্যে সোনা আমদানি কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লি

by ABDUR RAHMAN
রুপির চাপ সামলাতে সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়াল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভারতে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক বড় পরিসরে বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রুপির মানের টানা পতন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার রাতে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক আগের ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে এই শুল্ক।

ভারত সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে সোনা কেনার প্রবণতা কিছুটা কমবে এবং ডলারের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। কারণ সোনা আমদানির পুরো মূল্যই ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত সোনা আমদানি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও ভারতে সোনার চাহিদা কমেনি। বরং ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত ভারতের গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এ বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ভারত ইতোমধ্যেই সোনা আমদানি কমানোর চেষ্টা শুরু করেছে। সোনা ও রুপোর ওপর ৩ শতাংশ GST কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও আমদানি সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের সোনা আমদানি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে কয়েক দিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

ভারতে অপরিশোধিত তেলের পর সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে সোনা। বিয়ে, ধর্মীয় উৎসব এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই সোনার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে দেশটিতে। ফলে সোনা আমদানি কমিয়ে ডলার সাশ্রয় করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এএফপি, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ