শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিটি পাঠান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক) ফয়সাল মাহমুদ শান্ত। এতে বলা হয়, ১০ মার্চ সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।
এনসিপি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, “জাতীয় নাগরিক পার্টির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শিক্ষকদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এনসিপি দাবি করেছে, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন ব্যক্তিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দলটির মতে, অনেক সময় এমন ব্যক্তিরাও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও ছিল না। অথচ তারা স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের ওপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং শিক্ষানুরাগী সমাজের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এ উদ্যোগটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
এনসিপি আরও জানায়, নবনির্বাচিত সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের প্রত্যাশা ছিল—পূর্ববর্তী ইতিবাচক সংস্কারগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধানে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা একটি পশ্চাৎমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছে এনসিপি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আর/

