অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে নবীর (সা.) অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। একই সঙ্গে হাদি হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যে এমপি হানজালা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা জরুরি। তিনি বলেন, “যারা নবীকে নিয়ে কটূক্তি করে, গালিগালাজ করে, তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আইন জাতীয় সংসদ থেকে পাস করা হোক।”
তিনি আরও দাবি করেন, যারা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে ঘোষণা দিতে সংসদ থেকে আইন প্রণয়ন করা উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ দাবিতে বহু আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে যদি এটি আইনের মাধ্যমে স্বীকৃতি পায়, তাহলে এটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।”

এদিকে বক্তব্যে ‘হাদি হত্যার’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে এমপি হানজালা বলেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার এক তরুণের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, “যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়, তাহলে আমাদের মতো মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।”
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এছাড়া নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হানজালা। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক উদ্ধার করলেও আসামিরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংসদে দেওয়া এ বক্তব্যে ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়, আইন প্রণয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন এমপি হানজালা, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আর/

