অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সফরকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহ মনজুর আলমের বাসায় গেলে বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তিনি আরও লেখেন, সাবেক মেয়র দীর্ঘদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি অংশ সেখানে গিয়ে ‘মব’ তৈরি করেছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি যেখানে অন্তর্কোন্দলে বিভক্ত সেখানে এনসিপির শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট তাদের ভয়ের কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি যেখানে সারা দেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে সেখানে বিএনপির উচিত মব কালচার বাদ দিয়ে নিরপরাধ মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সচেতন হওয়া। পাশাপাশি নতুন করে বিএনপির কোলে উঠা কিছু মিডিয়া যেভাবে ন্যারেটিভ দিচ্ছেন তাদেরকে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে সাবেক মেয়র মনজুর আলম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে জানান, তিনি কাউকে বলেননি যে তিনি নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, “মানুষ এ নিয়ে কানাঘুষা করছে, তবে আমি নির্বাচন করব—এমন কিছু বলিনি।”
তিনি আরও জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় দুপুরে খাবারের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন এবং পরে বাইরে কিছু লোক জড়ো হলে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তিনি বাসা ত্যাগ করেন।
সাবেক এই মেয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। আমি বিএনপির নির্বাচিত মেয়র ছিলাম।”
আর/

