নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

by ABDUR RAHMAN

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত দুটি ব্যাংক হিসাবে মোট ৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মতো জমা রয়েছে। আর তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা আছে, তবে ঋণ সমন্বয় করলে তিনি দেনায় রয়েছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন
banner
পরিবারের ব্যাংক হিসাব

আসিফ মাহমুদ জানান, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে—স্যালারি, সেভিংস ও কারেন্ট মিলিয়ে। এসব হিসাবে মোট জমা রয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তিনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন, যার মধ্যে এখনো ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা পরিশোধ বাকি। ফলে হিসাব সমন্বয় করলে তার বাবা প্রায় ৮২ হাজার টাকার মতো দেনায় আছেন।

তার মায়ের একটি ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। স্ত্রীর একমাত্র হিসাবে জমা আছে ৬১৩ টাকা।

নিজের ব্যাংক হিসাব

আসিফ মাহমুদ বলেন, তার দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর একটি সোনালী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহৃত স্যালারি অ্যাকাউন্ট। বর্তমানে সেখানে জমা আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে মাসিক গড়ে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বেতন ও ভাতা পেয়েছেন। এছাড়া পাঁচটি বিদেশ সফরের টিএ/ডিএ বাবদ অর্থ এসেছে। সব মিলিয়ে ওই হিসাবে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। দায়িত্ব নেওয়ার আগে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল।

তার দাবি, উক্ত স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমাকৃত সব অর্থই সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে এসেছে; অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো অর্থ জমা হয়নি।

তদন্ত ও অভিযোগ প্রসঙ্গ

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। মোট ৫৬ জনের হিসাব চাওয়া হলেও তার বিষয়টি আলাদাভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তদন্তে আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কনফিডেনশিয়াল’ চিঠির তথ্য সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু হয়েছে। একটি গোষ্ঠী তার ও দলের বিরুদ্ধে ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারকে দেশে খেলতে না দেওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।

টেন্ডার প্রসঙ্গ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান; টেন্ডার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা নেয়। মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সীমিত। ই-জিপি পদ্ধতি স্বচ্ছ এবং অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার কিছু লুকানোর নেই। দায়িত্বে থাকাকালেও স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখবেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ