নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাইদুগুরিতে নামাজ চলাকালে একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আত্মঘাতী জ্যাকেটের সন্দেহজনক অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো বিস্ফোরণের প্রকৃতি পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার সময় মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। এতে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ৩৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে অতীতে এ ধরনের আত্মঘাতী হামলার দায় প্রায়ই জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম বা তাদের কোনো অংশ নিয়ে থাকে।
বোর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বর্বর ও অমানবিক কাজ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় উৎসবের সময় উপাসনালয় ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে উত্তর নাইজেরিয়ায় চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আত্মঘাতী হামলার সংখ্যা কিছুটা কমেছিল, তবু জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এখনও এ ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।
এর উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বোর্নো রাজ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সংঘটিত ত্রিমুখী আত্মঘাতী হামলার কথা উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর থেকেই উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় মসজিদ, বাজার ও বিভিন্ন উপাসনালয় হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়ে যায়, যাতে বেশি প্রাণহানি ঘটে।
পরবর্তীতে বোকো হারামের বিভক্তির পর গঠিত নতুন গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপি (ISWAP) ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে স্বাধীনভাবে হামলা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গোষ্ঠীটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হামলার সংখ্যা কমে আসে।
তবে ২০২৪ সালের পর থেকে গোষ্ঠীটি আবার সংগঠিত হতে শুরু করেছে এবং নতুন করে আত্মঘাতী হামলার প্রবণতা বাড়ছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
সূত্র: রয়টার্স।
আবুআ/

