আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের উত্তরাখণ্ডে উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অনুমোদন না থাকা এবং শিক্ষার গুণগত মান অর্জনের দোহাই দিয়ে রাজ্যটির বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ঐতিহ্যবাহী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টার্গেট করে বন্ধ করা হচ্ছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে দেরাদুন ও হালদোয়ানি শহরের একাধিক জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট নিয়মকানুন পূরণ করতে না পারায় এই ব্যবস্থা। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রশাসনিক কঠোরতার নামে মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।
সম্প্রতি দেরাদুনের আজাদ কলোনিতে অবস্থিত ‘মাদরাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া’য় সরাসরি সিলগালা ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি তীব্র প্রশাসনিক চাপ ও আইনি জটিলতার মুখে পড়ে একই এলাকার ‘মাদরাসা দার-ই-আরকাম’ এবং ‘মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া’র কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছায় কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে।
একই ধারা বজায় রাখা হয়েছে নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও। শহরের গৌজাজালি নর্থের ‘মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা’ এবং বানভুলপুরের ইন্দিরা নগরের আরও একটি মাদরাসা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে সিলগালা করা হয়। হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, পর্যাপ্ত নথি জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানান, অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ লিখিত দিয়ে বন্ধ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কড়া নির্দেশের পর থেকে রাজ্যাজুড়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রশাসনিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে উত্তরাখণ্ড সরকার রাজ্যের একমাত্র মাদরাসা বোর্ডটি হঠাৎ বিলুপ্ত করে দেয়। নতুন করে তদারকির নামে গঠন করা হয় একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই রাজ্যজুড়ে একের পর এক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মাদরাসা চিহ্নিত করে উদ্দেশ্যমূলক অভিযানের নামে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার ধারা জোরদার হয়েছে।

