ইসরায়েলি বাধার মুখেই গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার ১০০ লাশ, অধিকাংশই শিশু

দুই বছর পর স্বজনদের দেহাবশেষ হস্তান্তর; প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে খালি হাতেই চলছে উদ্ধারের লড়াই

by ABDUR RAHMAN
ইসরায়েলি বাধার মুখেই গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার ১০০ লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

হুদহুদ নিউজ: টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রিয়জনদের অবশেষের অপেক্ষায় ছিলেন গাজাবাসী। অবশেষে গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায় বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ। উদ্ধার হওয়া লাশের সিংহভাগই নিষ্পাপ শিশুদের।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম।

সিভিল ডিফেন্স সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে জেইতুনের আবাসিক ভবনগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বোমাবর্ষণে এসব পরিবার মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেঁচে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থীরাও বারবার হামলার শিকার হন। সম্প্রতি গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা রহিম, বালাউই, মালাকা ও কানবুর পরিবারের সম্পূর্ণ ধসে যাওয়া বাড়িগুলো থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে এই শত শত মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

মরদেহ ও দেহাবশেষগুলো জেইতুনের ইমাম আল-শাফি মসজিদের কাছে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় এবং সেগুলোর ওপর শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বজনরা কান্নাভেজা চোখে মোমবাতি ও ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নিহতদের স্বজনদের উপস্থিতিতে পুরো জেইতুনে এখন গণদাফন ও শোকযাত্রার প্রস্তুতি চলছে।

উদ্ধার পাওয়া মরিয়ম হাসান আল-বালাউই নামের এক নারী তার একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান মালাককে জড়িয়ে ধরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। স্বামী ও সব সন্তান হারিয়ে তিনি বলেন, “আমার পুরো জীবনটাই শেষ হয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের লাশ উদ্ধার হওয়ায় অন্ততঃ বুকের ভার কিছুটা হালকা মনে হচ্ছে।”

এদিকে, দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় কোনো ভারী খননযন্ত্র বা আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ঢুকতে পারছে না। ফলে সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রাচীন সরঞ্জাম ও হাতে চালানো অল্প কিছু যন্ত্র দিয়েই মাটি ও কংক্রিট সরিয়ে এই কঠিন উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ