আত্মস্বীকৃত মুনাফিকের দলে পরিণত হয়েছে আজকের বিএনপি: মামুনুল হক

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর

by Master Fatih
চট্টগ্রামের লালদীঘি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন মামুনুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক । হুদহুদ নিউজ>>

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে সংস্কার বাস্তবায়নের আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়েছিল। গণভোটের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সেই অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, গণভোট কোনো ‘ছেলেভোলানো গল্প’ ছিল না; এটি ছিল জাতির সঙ্গে একটি অঙ্গীকার। বিএনপিসহ ৩২টি রাজনৈতিক দল এ অঙ্গীকার করেছিল। অথচ এখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা গণভোটের বিষয়টি মন থেকে মানেনি এবং সংস্কারের ঐকমত্যও আন্তরিকভাবে ধারণ করেনি।

বিএনপির সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল—এই হলো তাদের অবনতি ও অধঃপতন। আত্মস্বীকৃত মুনাফিকের দলে পরিণত হয়েছে আজকের বিএনপি।’

ট্টগ্রামের লালদীঘি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন মামুনুল হক

লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা মুনাফিকি করতে পারেন, কিন্তু গণভোটের জন্য আমরা জনগণের কাছে ভোট চেয়েছিলাম। জনগণ আমাদের সম্মিলিত আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আপনারা গাদ্দারি করতে পারেন, আমরা গাদ্দারি করতে পারব না। আপনারা বিশ্বাসঘাতক হতে পারেন, আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না।’

লংমার্চকে সরকার পতনের আন্দোলন নয়, বরং সরকারকে সতর্ক করার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা লংমার্চ করেছি সরকার পতনের জন্য নয়, সরকারকে জাগানোর জন্য। সরকারের প্রতি সতর্ক সংকেত দেওয়ার জন্য।’

গণভোটের রায় কার্যকর না করে শুধু সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে জনগণকে সন্তুষ্ট করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে সরকারকে ‘চরম মাসুল’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে অতীতে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৭০ সালের জনগণের রায় উপেক্ষার প্রেক্ষাপটে যেমন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তেমনি ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় নিয়ে তামাশা করা হলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে এবং গণঅভ্যুত্থান হবে।

সমাবেশে তিনি শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যকর করার দাবিও জানান।

তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতে কার্যকর করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা করেই ছাড়ব। দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে স্লোগানে।’

 

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ