আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের অপ্রতিরোধ্য জয়-জয়কার লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য ইসলামবিরোধী প্রচারণা এবং নানা বাধা-বিপত্তির মুখেও মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন মুসলিম প্রার্থীরা। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা কংগ্রেসেও রেকর্ড গড়েছেন তারা।
এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫১ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। যার মধ্যে ১১ জন অংশ নেন কংগ্রেসের লড়াইয়ে এবং বাকি ৪০ জন লড়েন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় বিভিন্ন পদে। ডেমোক্রেটিক পার্টির টিকিটে লড়া এসব প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে নিজেদের জয় নিশ্চিত করেছেন।
আবদুল আল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয় ও ট্রাম্পকে কড়া বার্তা
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ডা. আবদুল আল-সাইয়েদ। ওয়েন কাউন্টির সাবেক এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রাথমিক নির্বাচনেও শক্ত প্রতিপক্ষ হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেছিলেন। মজার বিষয় হলো, ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর স্টিভেন্স নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দিলেও আল-সাইয়েদের বিজয় ঠেকানো যায়নি।
বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে আল-সাইয়েদ বলেন, “ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার সমস্যা হয়েছে। তাই আগামী জানুয়ারিতে জেডি যখন আমাকে শপথ পড়াবেন, তখন আপনি আমাকে শুধু সিনেটর বলে ডাকতে পারেন।”
পুনর্নির্বাচিত ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব
এদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছেন পরিচিত মুখেরা। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে ৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন প্রভাবশালী মুসলিম নারী রাজনীতিক ইলহান ওমর। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সব ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে বিপুল ভোটে জয় ছিনিয়ে নেন ইসরায়েলের এই কড়া সমালোচক।
একইভাবে মিশিগানের ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে বিজয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক নেত্রী রাশিদা তালিব। ইসরায়েলি নীতির তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই দুই নারী নেতার বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের শক্ত অবস্থানের কথাই জানান দেয়।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জয়
কংগ্রেস ও স্থানীয় আইনসভা মিলিয়ে আরও বেশ কয়েকজন মুসলিম প্রার্থী দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে জয়লাভ করেছেন লাতিফা সাইমন ও আয়েশা ওয়াহাব। এছাড়া নিউজার্সি অঙ্গরাজ্য থেকে প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. আদম হাশিম হামাওয়ি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনেও ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস (বা খোয়াস)। তিনি অঙ্গরাজ্যের প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আইনপ্রণেতা হওয়ার পাশাপাশি হিজাব পরিহিত প্রথম নারী হিসেবে নিউইয়র্ক আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশের মনে গভীর অসন্তোষ ছিল। আর এই জনরোষ ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়েই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। সব ফলাফল চূড়ান্ত হলে বিজয়ী মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

