অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সানিয়াজান নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তসংলগ্ন এলাকা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলীগঞ্জ সীমান্তে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেখলীগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বিএসএফ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিএসএফ সচেষ্ট রয়েছে। কোনো বাংলাদেশি জিহাদি হোক আর যে-ই হোক, ইন্ডিয়ার মাটিতে পা রাখলেই তাদের গুলি করে দেওয়া হবে।’
এ সময় সীমান্তে বিএসএফের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় দ্রুত জমি অধিগ্রহণ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং শূন্যরেখায় নজরদারি জোরদারের পক্ষে অবস্থান জানান এই বিধায়ক।
সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু সংগ্রহকে কেন্দ্র করেই সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশকারী বা দুষ্কৃতকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা নিজেদের দেশের ভূখণ্ডের মধ্যে থেকেই নদীতে কাজ করছিলেন।
সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিএসএফের সদস্যরা মাঝেমধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি এসে শক্তি প্রদর্শন করেন এবং নদীতে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বাধা দেন। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান এবং গুলি বা গ্রেনেড নিক্ষেপের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বিজিবি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অনুসরণ, আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ এবং পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে প্রতিবাদলিপি পাঠানো বা বৈঠক আহ্বানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ না করাই সমীচীন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নদী থেকে পাথর-বালু সংগ্রহের বিরোধ যেন গুলিবর্ষণ বা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা নিরসনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, তথ্য যাচাই এবং বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী মানুষের জানমাল সুরক্ষা এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এড়াতে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও সংযত আচরণ প্রয়োজন।

