অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দায়ে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্তিসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার সিএ ভবনসংলগ্ন এলাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই গণবিক্ষোভ সফল করতে এদিন থেকেই সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
এনসিপির তিন দফা দাবি:
১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জ্বালানি খাত পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ ও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন।
২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।
৩. সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো সব কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার চেয়ে সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে বেশি ব্যস্ত। ফলে সালাহউদ্দিন আহমেদের এই দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি।”
সরকারকে ভারত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে সরকার ও বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেছিল। এখনো আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে একধরনের গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে সরকার স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাতে পারেনি।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর শামিল।”
সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “পূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, যার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এর পেছনে সরকারের বিন্দুমাত্র কৃতিত্ব নেই; সাধারণ মানুষ, বিরোধী দল ও মাদ্রাসার ছাত্ররাই পাহারা দিয়ে এটি নিশ্চিত করেছে।”
সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন আগামী ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় শাহবাগের গণবিক্ষোভ সফল করতে ঢাকাবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে রাজপথে নেমে আসার জোরালো আহ্বান জানান।
দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “অনেকে হাল ছেড়ে দিলেও জনগণের অধিকার আদায়ে এনসিপি আবারও রাজপথে নেমেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এবং সরকারকে সবকিছুর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”
এ ছাড়া সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানান এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সমাবেশ শেষে কারওয়ান বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

