ময়মনসিংহ মেডিকেলে অ/গ্নিকাণ্ডের এক মাস পরও সচল হয়নি লিফট

লিফটের দীর্ঘ লাইনে দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনেরা, ৭–৮ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় বাড়ছে ভোগান্তি

by Master Fatih
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অচল লিফটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ

নাঈম আহমদ | ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত লিফট সচল হয়নি। এতে হাসপাতালের নতুন ভবনে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সচল লিফটগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন, অতিরিক্ত ভিড় এবং লিফট আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নতুন ভবনের ১১ নম্বর লিফটটি এখনো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। আগুন লাগার পর থেকে লিফটটির অবস্থার কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। মেরামতের প্রস্তুতিও চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে, ৯ ও ১০ নম্বর লিফটের সামনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের জটলা দেখা যায়। নতুন ভবনের একাধিক লিফট অচল থাকায় সচল লিফটগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। ধীরগতিতে ওঠানামার কারণে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক রোগী ও স্বজনকে লিফটে উঠতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন ষাটোর্ধ্ব রোমেলা খাতুন। তাঁর ছেলে জানান, লিফটে অতিরিক্ত ভিড় এবং যেকোনো সময় আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা লিফট ব্যবহার করতে ভয় পান। বাধ্য হয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করছেন তাঁরা।

তিনি জানান, গত শনিবার লিফটে ওঠার পর সেটি হঠাৎ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় ৭–৮ মিনিট ভেতরে আটকে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

১০ নম্বর লিফটের সামনে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা এক শিশুর মা সুমাইয়া আক্তার বলেন, অগ্নিকাণ্ডে অচল হয়ে পড়া লিফটগুলো এক মাসেও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিটি লিফটে ওঠার জন্য রোগীদের ১৫–২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ির ঘটনাও ঘটে।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় লিফটে জায়গা পাওয়া যায় না। তখন রোগী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ৭–৮ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। এতে তাঁদের শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম সপ্তাহে লিফট অপারেটরদের কয়েকজন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো ভবনের বিভিন্ন লিফটের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো অপারেটরের দেখা মেলেনি।

ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাজেদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত লিফটটি আর মেরামত করার সুযোগ নেই। সেখানে নতুন লিফট স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণে লিফট মেরামতের মূল দায়িত্ব ও এখতিয়ার গণপূর্ত বিভাগের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বারবার চিঠি দিয়ে তাগাদা দিচ্ছে। লিফট অপারেটরদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, নতুন লিফট স্থাপনের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অপারেটররা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাপ দেওয়া হবে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ