অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাওয়া কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিকের মাইক্রোবাস আটকে পৌরসভার ইজারার নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাদের মারমুখী ভঙ্গিতে ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নবীনগর-রাধিকা (বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সড়কের আলীয়াবাদ মোড়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম আসাদুজ্জামান বিপ্লব। তিনি নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক একটি মাইক্রোবাসে করে নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আলীয়াবাদ মোড়ে পৌঁছালে ইজারাদারের লোকজন গাড়িটি থামিয়ে জোরপূর্বক ইজারার টাকা দাবি করেন। এ সময় সাংবাদিকরা নিজেদের সংবাদকর্মী ও জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত উল্লেখ করে ইজারার আওতামুক্ত থাকার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কথা না শুনে ওই যুবক গাড়িটি আটকে রেখে স্থানীয় যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লবকে ডেকে আনেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে এসে যুবদল নেতা বিপ্লব সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অসদাচরণ করেন এবং জোরপূর্বক ইজারার টাকার নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং মারতে উদ্যত হন। শুধু তাই নয়, প্রভাব বিস্তারের জন্য তিনি নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা বলে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোরও চেষ্টা করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইজারাদার জাবেদুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অসদাচরণের জন্য বিপ্লবকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সম্মানিত সংসদ সদস্য মহোদয় এই ইজারা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।’
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি থেকে ইজারার টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। ইজারাদারের লোকজন যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পৌর ইজারা বাতিলের চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ও ভুয়া পরিচয়ের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার কোনো ভাতিজা নেই। অসৎ উদ্দেশ্যে যারা আমার নাম ভাঙিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমি ইতোমধ্যে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই ইজারা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছি।’

