লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে ‘মসজিদ-স্টাইল’ ভবন ও কাবার গিলাফ নিয়ে এপস্টেইনের রহস্যময় নথি প্রকাশ

ইসলামি স্থাপত্য ও ধর্মীয় নিদর্শন সংগ্রহে এপস্টেইনের আগ্রহ ঘিরে নতুন বিতর্ক

by ABDUR RAHMAN
লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপের একটি ভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের নতুন প্রকাশিত নথি ঘিরে বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। নথিতে উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে নির্মিত এক বিশেষ স্থাপনা এবং ইসলামি ধর্মীয় নিদর্শন সংগ্রহের তথ্য।

বিজ্ঞাপন
banner

ক্যারিবীয় সাগরের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে এপস্টেইন একটি নীল-সাদা ডোরাকাটা, সোনালি গম্বুজযুক্ত ভবন নির্মাণ করেন। নথি অনুযায়ী, ভবনটির নকশায় ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব ছিল এবং তিনি একাধিকবার এটিকে ‘মসজিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে ভবনটি আসলে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ একে সংগীতকক্ষ, কেউ প্যাভিলিয়ন এবং কেউ গোপন উপাসনালয় বলেও বর্ণনা করেছেন।

নথিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এপস্টেইন ইসলামি ও আরবি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই যোগাযোগের মাধ্যমেই তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় নিদর্শন সংগ্রহ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো কাবা শরিফের গিলাফ বা ‘কিসওয়া’। নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন কাবার অভ্যন্তরের ও বাইরের গিলাফসহ কয়েকটি মূল্যবান ধর্মীয় কাপড় সংগ্রহ করেছিলেন। এসব কাপড়ে কোরআনের আয়াত খচিত ছিল এবং এগুলো মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত।

সৌদি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইমেইল আদান-প্রদান থেকেও এসব নিদর্শনের গুরুত্ব ও সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।

একটি ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, কাবার একটি বিশেষ কালো কাপড় লক্ষাধিক মুসল্লির স্পর্শে পবিত্র হয়ে উঠেছিল।

২০১৭ সালে হারিকেন মারিয়ার আঘাতে এপস্টেইনের দ্বীপের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে ওই রহস্যময় ভবনের অংশও ছিল।

২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একই বছরের আগস্টে নিউইয়র্কের কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তার মৃত্যু এবং জীবনযাপন নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ