‘সরকারি বেঞ্চে বসে আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে’—সংসদে ডা. তাহের

জুলাই সনদ নিয়ে ‘প্রতারণার’ অভিযোগ, টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে সতর্কবার্তা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের আহ্বান

by ABDUR RAHMAN
সংসদে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারি দলের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সময়কার ভাষা ও ভঙ্গিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

তার ভাষায়, আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে যেভাবে জামায়াতকে সমালোচনা করা হতো, এখন একই ধরনের বক্তব্য সরকারি বেঞ্চ থেকেই আসছে। এতে সংসদের পরিবেশ অযথা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি।

ডা. তাহের বলেন, আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতারা যৌথভাবে কৌশল নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু বর্তমান সংসদে সেই ঐক্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় সবাই মিলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার ছিল, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। শুধুমাত্র সংসদে বক্তব্য দিয়ে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এজন্য রাজনৈতিক আচরণ ও মানসিকতায় পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টু-থার্ড মেজরিটি প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। উপমহাদেশের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, এটি ৩১টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে বিএনপিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে নির্বাচনে জয়ী দল নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী সব সিদ্ধান্ত নেবে—এমন বিষয় আলোচনায় ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। এটিকে তিনি এক ধরনের ‘প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি গণভোটের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, আগে যেটি গ্রহণযোগ্য ছিল, এখন সেটিকে অগ্রহণযোগ্য বলা হলে তা দ্বৈত মানদণ্ডের শামিল হবে।

ইতিহাস টেনে এনে তিনি বলেন, গণভোটের ভুল প্রয়োগ বিভিন্ন দেশে সংকট তৈরি করেছে। তাই দেশের স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

রাজাকার-আলবদর প্রসঙ্গ টেনে ডা. তাহের বলেন, অতীত নিয়ে একপাক্ষিক সমালোচনা না করে সবার ভালো-মন্দ দিক বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ অসত্যভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো ব্যাংক নেই এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় তাদের আনুষ্ঠানিক মালিকানা বা ঋণ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

শেষে তিনি বলেন, অতীতের মতভেদ ভুলে সংসদ ও সরকারকে যৌথভাবে সুস্থ ধারায় পরিচালনা করা প্রয়োজন, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ