আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
গাজামুখী ত্রাণবাহী বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একাধিক নৌযানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। সংগঠকদের দাবি, সশস্ত্র স্পিডবোট ও ড্রোন ব্যবহার করে নৌযানগুলোকে ঘিরে ফেলা হয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বহরের অন্তত সাতটি নৌযান গ্রীসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় অনেক দূরে।
ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামরিক বাহিনী নিজেদের পরিচয় দিয়ে নৌযানগুলোর দিকে লেজার ও অস্ত্র তাক করে এবং যাত্রীদের সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসতে নির্দেশ দেয়। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ফ্লোটিলাকে তাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে এবং এটি ছিল “উসকানিমূলক উদ্যোগ” প্রতিরোধের অংশ।
বহরে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের একজন জানান, রেডিও চ্যানেলে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়, যা তাদের মতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল।
গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ত্রাণবহরে প্রায় ৪০০ অধিকারকর্মী অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের নৌ অবরোধের কারণে গাজায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখ করে আসছে।
ফ্লোটিলার এক মুখপাত্র এই ঘটনাকে “আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক নৌযানে সরাসরি হামলা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অবৈধ এবং অপহরণের শামিল হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরও অনুরূপ একটি ঘটনায় একই ধরনের ত্রাণবহরের প্রায় ৪০টি নৌযান আটক করা হয়েছিল এবং বহু আন্তর্জাতিক কর্মীকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

