ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ১৭তম দিনে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ন্যাটোর যুদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিজস্ব পদক্ষেপ।’
যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস মন্ত্রী প্যাট্রিক বোস্কো ম্যাকফ্যাডেন বিবিসি রেডিও ৪–এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, “ন্যাটো গঠনের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির মতো কোনো প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ছিল না।”
তিনি বলেন, “এই সংঘাতকে ন্যাটোর যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”
একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নিক কার্টার বলেন, “ন্যাটো এমন কোনো জোট নয়, যেখানে কোনো সদস্য দেশ নিজ সিদ্ধান্তে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং অন্যদেরও তাতে বাধ্য করে।”
এদিকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডোর হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ন্যাটো মিত্রদের সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বিভিন্ন দেশ এতে সাড়া দিচ্ছে না।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল ব্রাসেলসে এক বক্তব্যে বলেন, “আমি দেখছি না যে ন্যাটো এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে পারে। যদি তেমনটি হতো, তবে ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবহন খাতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অঞ্চলের বেশিরভাগ আকাশপথ বন্ধ থাকায় বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
আর/

