মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, বর্তমানে তারা চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে। তবে এই সামরিক সহায়তার বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাশিয়া ও চীন আমাদের কৌশলগত অংশীদার। তারা রাজনৈতিকভাবে এবং অন্যান্য উপায়ে আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। তবে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সহযোগিতার বিস্তারিত প্রকাশ করা ঠিক হবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। তার দাবি, দুবাই ও রাস আল-খাইমাহসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
আরাঘচি বলেন, “এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে।”
তবে এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির সরকার বলেছে, আরাঘচির বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং তারা কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে পারস্য উপসাগরজুড়ে যেসব জ্বালানি স্থাপনায় মার্কিন কোম্পানির মালিকানা বা অংশীদারত্ব রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে জানিয়েছে—আমাদের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।”
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার শব্দ তিনি নিজেও শুনেছেন বলে জানান। তবে এতে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলের , এবং সহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে দাবি করেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—তা নাকচ করেছেন আরাঘচি। তিনি জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধ করার তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এই সম্ভাবনার খবরেই বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আর/

