আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে বড় ও মাঝারি আকারের বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই ক্ষতির পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে।
যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে জ্বালানি ও কাঁচামাল পরিবহনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তত ২৭৯টি কোম্পানি যুদ্ধজনিত ক্ষতির বিষয়টি তাদের আর্থিক বিবৃতি ও বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করেছে। ক্ষতি সামাল দিতে অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়ানো, উৎপাদন কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এর ফলে পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিপিং খরচও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষক জানিয়েছেন।
জাপানি গাড়ি নির্মাতা Toyota সতর্ক করেছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। একইভাবে Procter & Gamble জানিয়েছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় তাদের মুনাফা কমে যেতে পারে। ফাস্টফুড জায়ান্ট McDonald’s-ও জ্বালানির উচ্চমূল্যকে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইন্স সম্মিলিতভাবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সার, অ্যালুমিনিয়াম, হিলিয়াম ও পলিইথিলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে উৎপাদন শিল্প ও ভোক্তা বাজারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বহু কোম্পানি জানিয়েছে, আপাতত তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে পুরো ক্ষতির চিত্র দেখা যাচ্ছে না। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এটি ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার একটি।
আর/

