অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস-লালখান বাজার এলাকায় গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরো এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পূর্ণ প্রস্তুতিতে মাঠে রয়েছে। তিনি নিজেও টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে মোতায়েনকৃত সদস্যসংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এর আগে গত ১১ মে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চসিক সবসময় শিল্পকর্ম ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিয়ে আসছে। কোনো শিক্ষামূলক, সামাজিক বা আন্দোলনের গ্রাফিতি অপসারণে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
তিনি দাবি করেন, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পোস্টার অপসারণ করেছেন। সেখানে মূলত পোস্টার ছিল, গ্রাফিতি নয়। অনেক স্থানে এখনো আন্দোলনের গ্রাফিতি দৃশ্যমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের চেতনা তিনি ধারণ করেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি তার সম্মান রয়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেও তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছেন বলে জানান।
রোববার রাত ১১টার দিকে টাইগারপাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মোছার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আর/

