আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
লেবাননে সামরিক অভিযানে গিয়ে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় যেখানে ভারী সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের কারণে তাদের হতাহতের হার তুলনামূলক কম ছিল, সেখানে লেবাননে একই কৌশল এখন কার্যকর থাকছে না।
বিশেষ করে ছোট আকৃতির ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ (এফপিভি) সুইসাইড ড্রোন এখন ইসরায়েলি সেনাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এসব ড্রোন ব্যবহার করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।

এফপিভি ড্রোন সাধারণত ছোট কোয়াডকপ্টার, যার সঙ্গে ক্যামেরা যুক্ত থাকে। অপারেটর গগলসের মাধ্যমে লাইভ ভিডিও দেখে রিয়েল-টাইমে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। বিস্ফোরক যুক্ত থাকায় এগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২০০ থেকে ১,০০০ ডলারের মধ্যে তৈরি করা এসব ড্রোন অত্যন্ত সাশ্রয়ী হলেও কার্যকারিতায় অনেক বেশি। ফলে ব্যয়বহুল ট্যাংক ও সামরিক যানবাহনও সহজেই ঝুঁকিতে পড়ছে।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের আল-বায়াদা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশে এফপিভি ড্রোন হামলা চালিয়ে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। একই দিন আল-তাইবেহ এলাকায় একটি সামরিক যান এবং একটি হামভি গাড়িকেও লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কথা জানানো হয়।
এছাড়া বিন্নত জবেইল ও হুলা এলাকাতেও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে আর্টিলারি হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এসব ড্রোন সহজে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের শিকার হয় না। ফলে ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই নিম্ন প্রযুক্তির ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় তারা হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা থাকলেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি দেশটি।
সাম্প্রতিক এক হামলায় তাইবেহ এলাকায় ড্রোন আঘাতে ইসরায়েলি সেনাদের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এমনকি আহতদের সরিয়ে নিতে যাওয়া একটি মেডিভ্যাক হেলিকপ্টারেও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে এক ধরনের অসম পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল, টাইমস অব ইসরায়েল, ইএফই

