রায়পুরে ১৪ বছরের কিশোরের লাশ উদ্ধার, মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

১৫ ঘণ্টা পর সুপারিবাগান থেকে লাশ উদ্ধার; মাথায় আঘাতের চিহ্ন, তদন্তে পুলিশ

by ABDUR RAHMAN
নিহত কিশোর রাজিব হোসেন (১৪)

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর এক কিশোর অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রাজিব হোসেন (১৪) একই এলাকার ফজু মোল্লা স্টেশন এলাকার বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে। জীবিকার তাগিদে অল্প বয়সেই তিনি বাবার সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের ক্যাম্পেরহাট এলাকার একটি সুপারিবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি রাজিব। সাধারণত রাত ৮টার মধ্যেই সে বাড়িতে ফিরে আসত। রাত গভীর হলেও না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে অভিযান চালিয়ে উপজেলার উদমারা এলাকা থেকে রাজিবের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। তবে তখনও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

শনিবার সকালে স্থানীয়রা ক্যাম্পেরহাট এলাকার একটি বাগানে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সেটি রাজিবের বলে নিশ্চিত হয়।

হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন জানান, মরদেহে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এদিকে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে রাজিবকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

রাজিবের মামা শাহজাহান মাঝি বলেন, মুক্তিপণের দাবি পূরণ না করায় তার ভাগিনাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর সহিংস ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এ ধরনের ঘটনা রোধে স্থানীয় নজরদারি ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ