আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো সময় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে।
ইরানের সামরিক সদরদপ্তরের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তি বা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ নয়—এমন প্রমাণ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। তার ভাষায়, মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার কৌশল।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘দুঃসাহসিক’ পদক্ষেপ নেয়, তবে তার কঠোর জবাব দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হোসেইন নওশাবাদি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বড় বাধা। তার মতে, এই অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরে গেলেই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
নওশাবাদি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত সম্পদের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শক্তির লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে। তবে ইতিহাসে যেমন পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তেমনি বর্তমানেও ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অন্যদিকে, ইরানের দাবি—যুদ্ধের আগে আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তারা নমনীয়তা দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং ইরান কিছু দাবি শিথিল করলে ওয়াশিংটন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বিশেষ করে তেলের দাম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই উত্তেজনার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

