আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরান আবারও কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে তারা দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। টানা কয়েক মাস ধরে চলা এই সংকটে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইরানের দাবি, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে তাদের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা তাদের মতে আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই পড়ে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ নিরাপত্তা শঙ্কায় নিজেদের নাগরিকদের ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করা, তা এখন আরও জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে তারা আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আরও কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আক্রমণ হলে তা শুধু সীমিত প্রতিরক্ষা নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী ও বেদনাদায়ক জবাবের দিকে নিয়ে যাবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও নতুন সামরিক হামলা নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সামরিক চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
ইরান একই সময়ে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ছোট ড্রোন ও নজরদারি বিমানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যার ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে পড়ছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর/

