আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে—অর্থনৈতিক চাপের মুখে তার অবস্থান নরম হয়ে আসে।
প্রায় সাত সপ্তাহ আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে চাপে ফেলা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ছাড় আদায় করা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যুদ্ধ কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বরং উল্টোভাবে, ইরান এমন এক কৌশল প্রয়োগ করেছে যা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়, যার প্রভাব পড়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির উল্লম্ফন এবং সম্ভাব্য মন্দার শঙ্কা—এই তিনটি বিষয় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
দেশের অভ্যন্তরে এই অর্থনৈতিক চাপ রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই তিনি কূটনৈতিক আলোচনার দিকে ঝুঁকেছেন বলে জানা গেছে।
গত ৮ এপ্রিল সামরিক অবস্থান থেকে সরে এসে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দেন। একই সময় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয় তেহরান, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি সামরিক শক্তিতে না গিয়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেই যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। এই কৌশলকে অনেকেই “অর্থনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে, কিন্তু তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে যুদ্ধের ফলে ইতোমধ্যেই যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতেই পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি। তারা ভেবেছিল এটি সীমিত পরিসরের সামরিক অভিযান হবে। কিন্তু বাস্তবে তা বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। আর এই প্রভাবই ট্রাম্পকে তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।
আর/

