পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে হেফাজতের নতুন বার্তা

by ABDUR RAHMAN

আসন্ন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখে শিরকমুক্ত ও শালীন পরিবেশে সাংস্কৃতিক র‍্যালি আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা জেনেছি, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ নাম বাদ দিয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে এই বৈশাখী শোভাযাত্রা কতটা মুক্ত থাকবে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। তবে পহেলা বৈশাখে আমরা শিরকমুক্ত ও শালীনভাবে সাংস্কৃতিক র‍্যালি করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি আরও বলেন, “তাওহিদের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে শালীন আনন্দ ও শিল্পচর্চায় ইসলামের কোনো গুরুতর আপত্তি নেই। একজন ঈমানদার মুসলমান বৈশাখকেন্দ্রিক ‘মঙ্গল’ ধারণার মতো শিরক লালন করতে পারেন না। সব কল্যাণ শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।”

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তারকারী তথাকথিত ‘হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবেলায় বাঙালি মুসলমানদের নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে শালীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “কোনো প্রাণীর মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরি ও প্রদর্শন ইসলামে মৌলিকভাবে নিষিদ্ধ। তাই পহেলা বৈশাখ উদযাপনে আগ্রহী মুসলিমরা তাওহিদের চেতনা অক্ষুণ্ন রেখে শালীন পরিবেশে সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, বাংলা সনের প্রবর্তন আরবি হিজরি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং মুসলিম শাসনামলে বাংলা অঞ্চলে শিল্প-সংস্কৃতি, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার ব্যাপক বিকাশ ঘটে। সেই ঐতিহ্য তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সাংস্কৃতিক মিছিলে মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ঘোড়াকেও নিয়ে আসা যেতে পারে।”

একই সঙ্গে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘বাঙালির সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরা তাদের উগ্র জাতিবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।”

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ