যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে! আতঙ্কে তেল নিতে ভিড়, দ্রুত ফুরাচ্ছে পেট্রোল

পাবনায় আতঙ্কে তেল নেওয়ার হিড়িক, কয়েক ঘণ্টায় শেষ দুই দিনের পেট্রোল

by ABDUR RAHMAN

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। যুদ্ধকে ঘিরে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় পাবনায় হঠাৎ করেই তেল নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাহিদা তৈরি হওয়ায় দুই দিনের জন্য আনা পেট্রোল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পাম্প মালিকরা।

জানা গেছে, সম্প্রতি ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন গুজব ও আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে গত ৫ মার্চ বিকেল থেকে পাবনার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয় এবং অনেক পাম্পে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেট্রোল ফুরিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন
banner

পরদিন শহরের বেশিরভাগ পাম্পে তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ রাখতে হয়। পরে নতুন করে তেল এলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার শেষ হয়ে যায়। এতে জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকেই তেল না নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

পাবনা শহরের রাধানগর এলাকার এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আলামিন বলেন, “আগে পেট্রোল আনতে আমাদের গাড়ি গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। এখন কিছু সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে তেল প্রায় একই পরিমাণেই পাচ্ছি। কিন্তু গ্রাহকের চাহিদা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে। আগে কেউ ২০০ টাকার তেল নিতো, এখন এসে ২০০০ টাকার তেল চায়। আমরা তাই ২০০ টাকার বেশি দিচ্ছি না। অনেকেই তেল নিয়ে আবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, এতে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আগে প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল এনে দুই দিন ধরে স্বাভাবিকভাবে বিক্রি করা হতো। এখন একই পরিমাণ তেল ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

অনন্ত বাজার এলাকার হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, “কোনো পাম্প তেল মজুত করে রাখছে—এমন কথা ঠিক নয়। যা আসছে, সেটাই অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বোতলে তেল নিয়ে বাড়িতে রাখছেন, আবার বাইকের ট্যাংক খালি করে এসে নতুন করে তেল নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।”

শহরের বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলোর সামনে রশি টানিয়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তেল না থাকলেও অনেক বাইকার পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন।

তেল নিতে আসা হাসানুর রহমান বলেন, “সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, কিন্তু পাম্পে এসে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমাদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
মামুন হোসেন নামের এক বাইকার বলেন, “আমি সংবাদপত্রে কাজ করি। কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই বের হতে হয়। কিন্তু তেলের অভাবে দুদিন বাইকই বের করতে পারিনি। প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত তেল না নিলে এই সমস্যা এতটা হতো না।”

অন্য এক বাইকার মো. আকাশ বলেন, “শুরুর দিকে বেশি তেল নেওয়ার চেষ্টা করিনি। কিন্তু এখন দেখি সমস্যা বাড়ছে। তাই একটু বেশি নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ৩০০ টাকার বেশি তেল দেয়নি।”

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল হোসেন রেয়ন বলেন, “সরকারের কাছে মাত্র ১৪ দিনের তেল মজুদ রয়েছে—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত তেল নিচ্ছে। তবে বাস্তবে বড় কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, “রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে তেল মজুত রাখা বা কারসাজির সুযোগ নেই। পাম্পগুলোর রিজার্ভার নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং খোলা বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ