রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় শাখা দায়িত্বশীল সভা অনুষ্ঠিত

by ABDUR RAHMAN

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান সংগঠনের কর্মীদের প্রতি আত্মগঠন ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে কেবল রাজপথের লড়াই যথেষ্ট নয় বরং দেশ ও ইসলামের ওপর চেপে বসা ‘কালচারাল ফ্যাসিজম’ বা সাংস্কৃতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধেও আমাদের শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

আজ (১০ জানুয়ারী) শনিবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর পল্টনস্থ ফেনী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের জেলা ও মহানগরীর মজলিসে আমেলা সদস্যদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শাখা দায়িত্বশীল সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে মাওলানা জাহিদুজ্জামান বলেন, “যুব মজলিসের কর্মীদের আগে নিজেদের চরিত্র, নৈতিকতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক যোগ্যতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ, সুশৃঙ্খল সংগঠন এবং আদর্শিক দৃঢ়তা ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না। আত্মগঠনহীন আবেগ দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ কেবল রাজনৈতিকভাবে নয় বরং আমাদের সংস্কৃতি ও মনস্তত্ত্বের ওপরও জেঁকে বসেছে। এই কালচারাল ফ্যাসিজম মোকাবিলা করতে হলে যুবকদের শুধু স্লোগান ও মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমাদের কর্মীদের পড়াশোনা, জ্ঞানচর্চা এবং সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো সৎ, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল কর্মীবাহিনী। তাই প্রতিটি কর্মীকে নিয়মতান্ত্রিক কাজ, গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান ও নৈতিকতার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দ্বীন ও দেশের স্বার্থে লড়াই করতে হবে।”

সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা মোশাররফ হোসেন লাবীবের পরিচালনা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা এমদাদ আশরাফের দারসুল কুরআনের মাধ্যমে এ সভা শুরু হয়।

উক্ত দায়িত্বশীল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

সভায় যুব মজলিসের জেলা ও মহানগর শাখাসমূহের ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিগত এক বছরের প্রতিবেদন পেশ ও রিপোর্টের উপর পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাংগঠনিক পরিকল্পনা পেশ করা হয় এবং আগামী ১০ জানুয়ারী থেকে ১০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত দাওয়াতি মাস ঘোষণা করা হয়।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা জাকির হোসাইন, বায়তুল মাল বিভাগের সম্পাদক মাওলানা আবরারুল হক নোমান, প্রশিক্ষণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা আল আবিদ শাকির, সমাজকল্যাণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন, অফিস বিভাগের সম্পাদক মাওলানা হাবিবুল্লাহ সিরাজ, প্রচার বিভাগের সম্পাদক মাওলানা ফাতীহ মুহাম্মাদ সোলাইমান, প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক মাওলানা বোরহান উদ্দিন ইমাম, তথ্য ও গবেষণা বিভাগের সম্পাদক মুফতি শহীদুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আমিন, সহ-প্রশিক্ষণ বিভাগের সম্পাদক মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ, সহ প্রচার বিভাগের সম্পাদক মুফতি শহীদুল্লাহ্ কাসেমী, কেন্দ্রীয় মজলিসে খাসের সদস্য মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান, মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুক, মাওলানা ওসমান গনী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল মুরসালিন, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আকরাম হোসাইন।

মুআর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ