বাজারে কম দামে গম, তবু যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বেশি দামে কিনছে সরকার

জি-টু-জি চুক্তির আওতায় আমদানি অনুমোদন; উন্মুক্ত দরপত্রে কেনা হচ্ছে আরও ৫০ হাজার টন, মূল্য নিয়ে শুরু আলোচনা

by ABDUR RAHMAN
যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বেশি দামে কিনছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও সরকার সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই চালান মিলিয়ে সরকারের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জি-টু-জি চুক্তির আওতায় ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম প্রতি টন ৩২২ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টন ২৯৭ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ জি-টু-জি চুক্তির গমের দাম উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় প্রায় ২৪ ডলার বেশি।

সরকারি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান জি-টু-জি ব্যবস্থার আওতায় ধারাবাহিকভাবে গম আমদানি করা হচ্ছে। এর আগে চারটি চালানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক লাখ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থায় আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সরকার নিয়মিত রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গম সংগ্রহ করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, গমের মান এবং সরবরাহ সক্ষমতা বিবেচনায় সরবরাহকারী নির্বাচন করা হয়।

তবে সর্বশেষ এই ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গমের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজারে তুলনামূলক কম দামে গম পাওয়া সম্ভব হলেও কেন বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই গম কেনা হচ্ছে—এ প্রশ্নও উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান জি-টু-জি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার রাখাও এ ধরনের আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় বলে জানা গেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৃষিপণ্য আমদানি ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ