আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বন্ধুসুলভ এবং সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ইহুদি ভোটার এখনও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে সমর্থন করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলিরা নিজেরাই তাকে তাদের ইতিহাসের সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করে। তার ভাষায়, ‘একজন ইহুদি কীভাবে ডেমোক্র্যাটকে ভোট দেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার দাবি, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধ হিসেবে নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তিরও কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার মতে, ওই চুক্তি কার্যকর ছিল না এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে কঠোর নীতি প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের পদক্ষেপের কারণে ইরানে কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে পারেনি এবং কার্যত একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তৈরি হয়েছিল। তবে বৈশ্বিক নৌপরিবহন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছায়া বহরের মাধ্যমে একাধিকবার সেই অবরোধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী সমঝোতার ফলে ইরান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা, গম ও সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কিনবে, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য ইতিবাচক হবে। তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কোনো চুক্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ইহুদি ভোটার এখনও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদেরই সমর্থন করে আসছেন। ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের বুথফেরত জরিপেও সেই প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া সাম্প্রতিক এক জরিপে মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মাত্র ৪৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ফলে ইসরায়েলে তার জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
আর/

