সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিখোঁজ: গুম মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার

২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হন সুখরঞ্জন বালী; তার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

by ABDUR RAHMAN
সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিখোঁজ সুখরঞ্জন বালী মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হওয়া পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বিজ্ঞাপন
banner

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. ফজলুর রহমান। ঘটনার সময় তিনি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে কোথা থেকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফজলুর রহমানকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সীমান্ত এলাকায় তাকে পাওয়া গেছে। তবে শুরু থেকেই তার পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে আসছিল, আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে সুখরঞ্জন বালী ভারতে পৌঁছান এবং সেখানে বিভিন্ন কারাগারে প্রায় পাঁচ বছর আটক ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পর তাকে চোখ ও হাত বেঁধে তুলে নেওয়া হয়। প্রথমে জানালাবিহীন একটি কক্ষে কয়েক মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে বিজিবির সহায়তায় তাকে ভারতের বৈকারী সীমান্তে পাঠানো হয়। এরপর বিএসএফ তাকে আটক করে বশিরহাট সাবজেল এবং পরে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।

সুখরঞ্জন বালীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাকে তার ভাই বিশাবালী হত্যাকাণ্ডে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। কিন্তু তিনি জানান, তার ভাইকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে মারধরের অভিযোগও করেন তিনি।

পরে সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে যোগাযোগের পর প্রকৃত ঘটনা আদালতে তুলে ধরতে সম্মত হন সুখরঞ্জন বালী। সেই উদ্দেশ্যে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে গেলেও আদালতের প্রবেশপথ থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সুখরঞ্জন বালী আরও দাবি করেন, কারাবন্দি অবস্থায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তার সঙ্গে দেখা করে নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করে। দেশে ফেরার পরও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজ বাড়িতে না ফিরে আত্মগোপনে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ